Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সোয়া কোটি টাকা ডাকাতির পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৬০ লাখ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০৬ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫১

র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।

ঢাকা: রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন বাংলাদেশ (র‍্যাব)। এ ঘটনায় র‍্যাব ৪৮ লাখ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। সবমিলিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম. জেড. এম. ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাল রঙের ছোটো কাভার্ডভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথরোধ করে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর র‍্যাবের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিতে এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসে।’

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব জানায়, ডাকাত দলের সদস্য কাওসার ডিএল ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে তেল নেওয়ার কাজে আসা-যাওয়া করতেন। এ সময় ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড়ো অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘পূর্বে কুমিল্লায় একটি সোনা ডাকাতির মামলায় জেলে থাকাকালীন ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত হাকিমের সঙ্গে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম ওই সময় জেলে থাকায় তারা অপেক্ষা করতে থাকে। পরে হাকিম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারা ডাকাতির পুরো পরিকল্পনা করে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ গত ২ আগস্ট মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্য প্রদানকারী কাওসার এবং ডাকাতি বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা একসঙ্গে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যায় এবং পুরো এলাকা রেকি করে।’

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য হাকিম ও কাওসার ছাড়াও আরও সাতজন যুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেয় এবং একজন ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে তথ্যদাতা হিসেবে অবস্থান করছিল।

তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ নামে ওই তথ্যদাতা ফিলিং স্টেশনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি মোবাইলফোনে ছোটো লাল রঙের কাভার্ডভ্যানে করে টাকা নিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়ি রওনা হওয়ার তথ্য ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান। পরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ডাকাত দল কাভার্ড ভ্যানটির গতিরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘ডাকাতি সফল হওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ করে নেয়। মূল সর্দার জলিল মোল্লা ৫৩ লাখ টাকা নিজের কাছে রাখে। ডাকাতির সময় তার হাতে পিস্তল ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। তার সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা ভাগে নেয়। ডাকাতির সময় তার হাতেও পিস্তল ছিল। ডিবি তাকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুস্তাফিজের কাছে ১৪ লাখ টাকা ছিল। শওকত হোসেন দীপু পেয়েছে ১০ লাখ টাকা, সোহেল পেয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং আলী, যার হাতে ডাকাতির সময় চাপাতি ছিল, সে পেয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া শওকত হোসেন দীপুর সঙ্গে থাকা আরেকজন অজ্ঞাত সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছে।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাজটি গুছিয়ে দেওয়ার জন্য সোর্স হাকিম ও কাওসারের টাকার ভাগ জলিলের কাছেই রাখা ছিল। হাকিম ও কাওসারের টাকার ভাগ জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থসংক্রান্ত তথ্যগুলো জলিলের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।’

তিনি জানান, তদন্ত চলাকালে পূর্বের দুইটি মামলার নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরিকল্পনাকারী হাকিমকে গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে গ্রেফতার করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুইটি হ্যান্ডকাফ এবং একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

হাকিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হাকিমের তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। জলিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল স্বীকার করেছে, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে সংঘটিত ১৭ লাখ টাকার ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও সে ও তার চক্র জড়িত ছিল।