Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিয়ে কাফরুলে হত্যা, চুক্তি ২৫ লাখ: ডিবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩০ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৩

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা।

ঢাকা: রাজধানীর কাফরুলে ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাতের দখল নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম বাবুর ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের একপর্যায়ে সিএনজি হাফিজ যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা মাগুরা ও আশেপাশের এলাকা থেকে ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়। আর এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, ‘এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের (কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহব্বায়ক) সঙ্গে হাফিজুল ইসলাম বাবুর (কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব) ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাতের দোকান দখল এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম বাবু ওরফে ডিএসপি বাবুর ডিশ এবং ইন্টারনেটের ব্যবসা দখল ও ডিএসপি বাবুর ইমাননগরে অবস্থিত টিনশেড বাড়ি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের প্রেক্ষিতে সিএনজি হাফিজ যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা মাগুরার আশপাশ থেকে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনী বাহিনী ভাড়া করে।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৯ জুন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনী হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজের সঙ্গে দেখা করে এবং মিরপুর-১০-এ বৈশাখী হোটেলে ৭১৪ নম্বর রুম ভাড়া করে। তারা বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে হাফিজসহ সবাই একত্রিত হয়। হাফিজের দুইটি পিস্তল আবির হাওলাদারের কাছ থেকে তার ম্যানেজার নাহিদ গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ পিস্তলে গুলি লোড করার সময় একটি মিস ফায়ার হয়ে বিকট শব্দ হলে তারা ওইদিনের হত্যা পরিকল্পনা স্থগিত করে, কিন্তু পেশাদার খুনীরা ওইদিন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার অযুহাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের পাশে পৌঁছে বাবুর চেহারা চিহ্নিত করে আসে ও সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে এলাকায় চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ২২ জুলাই পুনরায় সিএনজি হাফিজের কথামতো সবাই ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২-এ সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর রুম সিএনজি হাফিজের নামেই ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে। ২৩ জুলাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা সন্ধ্যার দিকে হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয় এবং সিএনজি হাফিজের লোড করা পিস্তল দু’টি নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ নিয়ে জিয়ারুলকে একটি পিস্তল ও চঞ্চলকে একটি পিস্তল দেয়। পিস্তলগুলো নিয়ে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের অপর কর্মচারী সাফিন ও জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি ও আসামিদের পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করে এবং আলী হোসেন ঘটনা ঘটার পরবর্তীতে পুলিশি তৎপরতা এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আসামিদের নিয়মিত তথ্য দিয়ে অবগত করতে থাকে।’

এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার অফিসের সামনে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাপকালে অপরিচিত লোকদের সন্দেহজনক মনে হলে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন তিনি। তখন তারা বলে, তাদের বাসা মিরপুর-১০-এ। একপর্যায়ে হাফিজুল ইসলাম বাবুসহ তার নেতাকর্মীরা অপরিচিত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করতে চাইলে তাদের মধ্যে একজন পিস্তল বের করে যুবদল কর্মী ইউসুফের বুকে গুলি করে। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চঞ্চলকে অস্ত্রসহ আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। ওই গোলাগুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হয় এবং সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কাফরুল থানায় দুইটি নিয়মিত মামলা করা হয়।’

সারাবাংলা/এমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর