ঢাকা: ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার ইয়াবাসহ যশোরভিত্তিক পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মো. জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছা. জলি বেগম (২০)।
মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘গত ৯ জুন ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যশোরগামী একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের আরও ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএনসি ‘
তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। ৬ জুলাই সোমবার রাতে ঢাকার শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। পরে মোটরসাইকেল দুটিতে থাকা ৪ জনকে আটক করে বিধিমোতাবেক তল্লাশি চালিয়ে তাদের থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা ঢাকায় ইয়াবা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা কৌশল পরিবর্তন করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে আসছিল।’
ডিএনসি’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপির শ্যামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দেশে নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ সকল ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিএনসি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।‘