Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রক্তাক্ত মাতমে কারবালার স্মৃতিচারণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০২৬ ২১:৫৩

‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মাতম। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: পবিত্র আশুরায় কারবালার বিয়োগান্তক স্মৃতি স্মরণে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মাতম করছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন ) হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে ঐতিহ্যবাহী ও শতাব্দী প্রাচীন এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার তাজিয়া মিছিল শুরু হয়।

সকাল থেকেই হোসেনি দালান প্রাঙ্গণে কালো পোশাক পরিহিত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মিছিলে অংশ নেওয়া শিয়া পুরুষদের একটি অংশ খালি গায়ে ধারালো ছুরি ও ব্লেডযুক্ত জঞ্জির বা শিকল দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত মাতম করেন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রা.)-এর ওপর নেমে আসা অমানুষিক নির্যাতন ও কষ্টের প্রতি সমবেদনা জানাতেই এই রক্তাক্ত জঞ্জির মাতম করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কারবালার ঐতিহাসিক প্রান্তরের পানির তীব্র সংকট এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনমনীয় সংগ্রামের কষ্টকে নিজেদের শরীরে ধারণ করাই এই আচারের মূল উদ্দেশ্য। কারো চোখে অশ্রু আর কারো শরীরে রক্তের দাগ নিয়ে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বুক চাপড়ে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।

মিছিলের অগ্রভাগে ছিল কালো ব্যানার, পাঞ্জা, বেহেশতি নিশান, কারবালার বিভিন্ন প্রতীক এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতীকী দুলদুল ও খুনি ঘোড়া।

শোক মিছিল শুরুর আগে অনেক ভক্তকে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রতীকী দুলদুল ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢেলে মানত পূরণ করেন। শিশুদের শরীরেও দুধ মাখিয় মানত পূরণ করেন শিয়া সম্প্রদায়রা।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কারবালার শোকস্মৃতি এবং ইসাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা এ আচার পালন করেন।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত কয়েকজনকে কারবালার যুদ্ধের প্রতীকী সাজে এবং শিশুদের ইমাম হোসাইনের অনুসারীদের বেশে দেখা যায়।

শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে আশুরা শুধু শোক প্রকাশের দিন নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে অবিচল থাকার শপথ নেওয়ার দিন।

৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শাহাদত বরণ করেন।

সেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ত্যাগকে ধারণ করেই প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র আশুরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়।