Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিনোদন কেন্দ্রগুলাতে ঈদ আনন্দে মেতেছিল শিশুরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩১ মে ২০২৬ ২২:৩১ | আপডেট: ১ জুন ২০২৬ ১০:০৬

বিনোদন কেন্দ্রগুলাতে ঈদ আনন্দে মেতেছিল শিশুরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল ভেতরের শিশু কর্নারে। শিশুদের অধিকাংশেরই শেষ গন্তব্য ছিল এই আনন্দময় চত্বরটি। সকাল থেকেই ছোট্ট ট্রেন, ঘূর্ণায়মান রাইড, দোলনা আর যান্ত্রিক খেলনার রঙিন দুনিয়ায় মেতে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুরা।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি রাইডের টিকিট কাউন্টারের সামনে তৈরি হয় উৎসবমুখর দীর্ঘ লাইন। বৈদ্যুতিক রাইডে ওঠার জন্য শিশুদের ব্যাকুলতা আর আনন্দের চিৎকারে পুরো এলাকাটি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত মেলায়। অনেক অভিভাবককে দেখা গেছে ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের আবদার মেটাতে হাসিমুখে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে। কেউ আবার সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো মুঠোফোনের ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছুটির শেষ মুহূর্তটিকে রাঙিয়ে তুলতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা হাজারো মানুষের পদচারণায় পুরো শিশু কর্নার জুড়ে ছিল এক চিলতে বাড়তি উৎসবের আমেজ।

বিজ্ঞাপন

বাবা-মায়ের হাত ধরে রঙিন ট্রেনের বগিতে চড়ার জন্য শিশুদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। ট্রেনটি যখনই হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা শুরু করছিল, বগিগুলোতে থাকা খুদে যাত্রীদের মুখে তখন ফুটে উঠছিল বিজয়ের অনাবিল হাসি।

এলিফেন্ট রোড থেকে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে আসা ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক অভিভাবক সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের দিন থেকেই আমার ছেলে শিশুপার্কে আসার জন্য জেদ ধরেছিল। এই ট্রেনে চড়ার জন্যই তার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল এবং এখানে এসে সে ভীষণ আনন্দ করছে।’

পল্লবী এলাকা থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী জিহাদ হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের খাঁচাবন্দি পশুপাখি দেখানোর পাশাপাশি একটু বাড়তি বিনোদনের জন্য এই শিশুপার্ক-এ নিয়ে এসেছি। শিশুদের এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে নিজেদেরও খুব ভালো লাগছে।’

মোহম্মদপুর থেকে সপরিবারে আসা মেহেদী হাসান নামের এক বাবা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকায় শিশুদের নিয়ে সুস্থ বিনোদনের উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়ানোর মতো খোলামেলা জায়গা খুব বেশি নেই, তাই ছুটির এই দিনে চিড়িয়াখানাই তাদের প্রথম পছন্দ থাকে, এখানে প্রাণীদের চেনানোর পাশাপাশি রাইডের আলাদা ব্যবস্থা থাকায় শিশুরা দারুণ উপভোগ করে।’

৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফের স্কুল। দৈনন্দিন রুটিনে, বইপুস্তকে মনোযোগ হয়ে লেখাপড়া করা শুরু আবার। সেই সঙ্গে ১ মে থেকে বড়দের জীবনেও ফিরছে যান্ত্রিকতা আর কর্মময় ব্যস্ততা। প্রতিদিনের সেই চেনা ল্যাপটপের স্ক্রিন, জ্যাম আর চার দেয়ালের বন্দিজীবনে ফেরার আগে ছুটির এই শেষ ফুরসতটুকু কাজে লাগাতে চেয়েছেন সবাই।

শিশু পার্কের এই রঙিন ধুলোবালি আর খিলখিল হাসির স্মৃতি বুকে নিয়ে একে একে ঘরে ফিরবে ক্লান্ত কিন্তু তৃপ্ত পরিবারগুলো। যা আগামী দিনের ব্যস্ত শহরে টিকে থাকার জন্য এক বুক সতেজতার প্রয়াস জুটিয়েছে।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর