Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে পালটাপালটি হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১২ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১৩

কোতয়ালি থানা। ফরিদপুর।

ফরিদপুর: ফরিদপুরে মাদকসেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ডাঙ্গীর আক্কাস আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় লতিফ শিকদারের ছেলে বক্কর শিকদার (৪২) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন রাজা মিয়ার ছেলে ওমানপ্রবাসী টুলু মিয়া (৩৫)।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ডাঙ্গী এলাকায় বসে স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করে। ওই দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করেন টুলু মিয়া ও সুমনসহ কয়েকজন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে টুলু ও তার সহযোগীরা শাকিলের কাছে টাকা দাবি করেন।

পরে শাকিলের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু মিয়া সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টুলু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনার জেরে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আনুমানিক ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে লোকজন নিয়ে আক্কাস আলীর মোড় এলাকায় মহড়া দেন। এ সময় আগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মুদি-দোকানি বক্কর শিকদার ও মান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মারধর করে তারা চলে যায়।

পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বক্কর শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে টুলু মিয়াকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করে। এ সময় কয়েকশত লোক তাদের জিম্মি করে রাখে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে গাড়ির পর্দা ছিঁড়ে ফেলে এবং চাবি নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কোতোয়ালি থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বক্কর শিকদার ও টুলু মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মিন্টু মৃধা বলেন, ‘টুলু মিয়া ওমানে থাকলেও মাঝেমধ্যে দেশে আসেন এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। তারা ২-৩টি পরিবার ব্যতীত পুরো গ্রাম একদিকে রয়েছে। গতকাল ঘটনা ঘটিয়ে আজ সকাল ১০টার ফ্লাইটে নাকি আবার ওমান চলে গেছে!’

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নীলু মিয়া রামদা নিয়ে এসেছিল। তখন বক্করের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল। এ কারণে গতকাল বক্করকে এসে মারধর করেছে। পরে গ্রামবাসী মিলে তার বাড়িতে হামলা চালায়।’

ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ নানা বিষয়ের জেরে দু’টি পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পুলিশের কাজে বাঁধার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া দুই পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।