Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘আমরা রেডি, সকালে চলে আসব’ বাবার সঙ্গে দেবাশীষের শেষ কথা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৯

বাচ্চাদের সঙ্গে নিহত দেবাশীষ দত্ত।

কুষ্টিয়া: ‘আমাদের ভবিষ্যৎ বলে এখন আর কিছুই নাই। এখন ভগবান যা করেন।’ কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ দত্ত।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে লাগা আগুনে সপরিবারে নিহত হন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত।

ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে দিলীপ দত্ত বলেন, ‘সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ৯টায় ওর মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরা বলছিল, আমরা রেডি, লাগেজ-টাগেজ গুছিয়েছি। ব্যাগ-ট্যাগ রেডি করতেছি। আমরা সকালে চলে আসব।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সেই সকাল আর আসেনি। দেশে ফেরার আগেই কলকাতার হোটেলের আগুনে প্রাণ হারান দেবাশীষ ও তার পরিবারের তিন সদস্য।

নিহত দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত।

দিলীপ দত্ত বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল দেবাশীষ। আমার মাসে ওষুধ লাগে চার হাজার টাকা। ওর মায়ের ওষুধ লাগে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। দেবাশীষের উপর আমাদের পরিবারের সমস্ত কিছু ছিল।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতার পাশাপাশি বেঙ্গালুরুও গিয়েছিলেন তারা। মঙ্গলবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যু হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে রাতের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

নিহত দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’ ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

একসঙ্গে পরিবারের চারজনকে হারিয়ে চলছে শোকের মাতম।

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশীষ অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।’

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে দেবাশীষের কুষ্টিয়ার বাড়িতে এখন শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর