রাজবাড়ী: ফরিদপুরের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সঙ্গে রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের বিরোধের জেরে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই জেলার যাত্রীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে এ রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও ত্রি-হুইলারে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।
রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ থেকে জানা গেছে, গোল্ডেন লাইনের রাজবাড়ী রুটে চারটি ট্রিপ চলার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৮ থেকে ৩০টি ট্রিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০২৩ সালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের বৈঠকে চারটি ট্রিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

বাস না চলায় বেড়েছে অটোর ভাড়া।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ফরিদপুরের কোমরপুর এলাকায় রাজবাড়ীর রেখা পরিবহনের একটি বাস আটকে স্টাফদের মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এরপরই রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকাগামী পরিবহন, যশোর, মাগুরা ও খুলনা রুটের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরগামী যাত্রীদের অভিযোগ, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে ফরিদপুরগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন যাত্রীরা বলেন, ‘নতুনবাজারে এসে দেখি ফরিদপুরের কোনো বাস চলছে না। মাহেন্দ্র ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ৬০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা নিচ্ছে। যার থেকে যেমন পারে তেমনই নিচ্ছে। এখন বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্র বা ইজিবাইকে যেতে হচ্ছে।’
রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গোল্ডেন লাইনের অতিরিক্ত ট্রিপের কারণে স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা করেও সমাধান হয়নি। প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা হলে আমরা বসতে প্রস্তুত।’
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি জানতে পেরেছি। দুই জেলার বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’