Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পোকার হানায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ, তবুও আখের বাম্পার ফলনের আশা

আশরাফুল ইসলাম জয়
৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:১৬ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৭

খেতে আখের পরিচর্যা করছেন চাষি। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু গুড় উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। জেলার উৎপাদিত আখের বড় একটি অংশ স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চলতি মৌসুমেও জেলার নয়টি উপজেলায় ব্যাপক আকারে আখের চাষ হয়েছে। তবে মাঠজুড়ে ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবুও কৃষক ও কৃষি বিভাগ আশা করছে, সময়মতো পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এবারও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৮১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টরে। সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলায় আখের চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে আখের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লাপাড়া উপজেলার আখচাষি আব্দুল মালেক সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবার চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। শুরুতে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো ছিল। পরে কিছু গাছে মিলিবাগের আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেছি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘হোয়াইট ফ্লাইয়ের কারণে কয়েকটি জমিতে সমস্যা হয়েছে। তারপরও নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আখের দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও ভালো হবে বলে বিশ্বাস করি।’

কৃষকদের মতে, আখ শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, এটি সিরাজগঞ্জের হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। আখ কাটার মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গুড়ের ভাটা চালু হয়। সেখানে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে আখের উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের পাশাপাশি গুড় উৎপাদক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত জাতের আখ চাষ, আধুনিক পরিচর্যা এবং রোগ-পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত জমিগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব রোগ-পোকা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আখের প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভেজালমুক্ত গুড়ের উৎপাদনও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার উৎপাদিত আখের সিংহভাগই গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় ‘রং বিলাস’ জাতের আখের চাষও এবার বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে এই জাতের চাহিদা ভালো থাকায় কৃষকরা লাভজনক মূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগ-পোকার আক্রমণ শুরুতেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে পরিচর্যা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কিছু এলাকায় পোকার আক্রমণ উদ্বেগ তৈরি করলেও কৃষকদের প্রত্যাশা প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবারও সিরাজগঞ্জের মাঠে মিলবে আখের বাম্পার ফলন, আর সেই আখ থেকেই তৈরি হবে ভেজালমুক্ত গুড়।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

আশরাফুল ইসলাম জয় - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর