Sunday 19 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাড়ি নির্মাণে বন্ধ পানিপ্রবাহ, দুর্ভোগে ৫ গ্রামের কৃষক ও শিক্ষার্থীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:১৩ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:১৪

জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী

নীলফামারী: জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী ঝিঞ্জিরপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় দুই শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিঞ্জিরপাড়া এলাকায় আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে আজিজুর রহমান ব্রিজের দুই পাশে বাড়ি নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে ব্রিজের মুখে বাড়ি নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং পাঁচটি গ্রামের কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আশিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা বাজার থেকে একতা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫টি ব্রিজ ছিল। ২০১৬ সালের বন্যার পর এই এলাকা প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দারা চলে গিয়েছিলেন। পরে ধীরে ধীরে তারা আবার এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করেন। তখন যে যার মতো সুবিধা নিয়ে ব্রিজগুলোর সামনে-পেছনে বাড়ি নির্মাণ করতে শুরু করে। আগে যেসব জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল হতো, এখন সেখানে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না।’

স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, ‘এখানে সরকার প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। পরে ব্রিজের দুই পাশে প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। তখন এলাকাবাসী বাধা দিলেও তারা তা মানেননি।’

সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী বলেন, ‘ব্রিজের দুই পাশে বাড়ি নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না। আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করেছি ব্রিজের দুই পাশে বাড়ি না তুলতে। কারণ এতে অনেক আবাদি জমি নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি। মাটি ভরাট করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছে। ফলে অনেক আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আবাদ করতে পারছেন না।’

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘মানববন্ধনের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি জায়গা বা পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

জীবিকা ও বরকত বৃদ্ধির উপায়
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৮

আরো

সম্পর্কিত খবর