বাগেরহাট: সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোটো জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৯৫ রাউন্ড কার্তুজ জমা দেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে, সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন চরপুটিয়া খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি দলের কাছে তারা অস্ত্র সমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার গান, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান এবং দুইটি চায়না পাইপগানসহ মোট ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেন। পাশাপাশি ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজও জমা দেওয়া হয়।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীটি সুন্দরবনের গহীনে সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আত্মসমর্পণকারী এই দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫) ছাড়াও রয়েছেন খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা, বাগেরহাটের রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দারা।
এর আগে, গত ২১ জুন সাতজন এবং ৯ জুলাই তিনজন দস্যু অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।