মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করায় এক যুবকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বাবার বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে দুর্বল করতেই তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি উপজেলার চালা ইউনিয়নের রানিয়াদি গ্রামে।
গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে একটি দোচালা ঘরে আগুন লাগে। স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রানিয়াদি গ্রামের মো. কুব্বতের ছেলে রনি একই গ্রামের মো. ফজলুল হোসেনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার মিমকে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
এ ঘটনার পর ৪ জুলাই মেয়ের বাবা হরিরামপুর থানায় রনিসহ তার পরিবারের আরও তিন সদস্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর থেকে ছেলের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছেলের পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার দিবাগত রাতে তাদের বাড়ির একটি দোচালা ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
রনির চাচি মাজেদা বেগম বলেন, ‘পোড়া গন্ধে আমার ঘুম ভেঙে যায়। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রথমে বড় ভাতিজাকে ফোন করি, কিন্তু সে ফোন ধরেনি। পরে বাইরে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকলে সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মোল্লা বলেন, ‘এতদিন ধরে এলাকায় আছি, এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। রনি ও মিম পালিয়ে বিয়ে করার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেদিন যদি বিদ্যুৎ থাকত, তাহলে আগুন ছড়িয়ে আরও অনেক বাড়িঘর পুড়ে যেতে পারত।’
রনির চাচা মো. ওমর বলেন, ‘আমি ঢাকায় চাকরি করি। বুধবার রাত প্রায় ১টার দিকে বাড়ি থেকে ফোন করে আগুন লাগার খবর জানানো হয়। খবর শোনার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। আমাদের বাড়িতে ছোটো ছোটো শিশু রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাতিজা বিয়ে করেছে, এতে আমাদের পরিবারের কী অপরাধ? এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
হরিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে নিয়ে ওই পরিবারের লোকজন থানায় এসেছিল। তবে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। শুধু ঘটনাটি জানিয়েছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানতে চাইলে তারা বলে, বিষয়টি তারা জানে না। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা কোনো অভিযোগ দেয়নি।’
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, ‘ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলাকে হালকা করার উদ্দেশ্যে তারাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়ে থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না করলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেছে এবং বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) নোট করা হয়েছে।’