পিরোজপুর: জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কাউখালী থেকে স্পিডবোটে নদীপথে নেছারাবাদের নাপিতখালী ও সোহাগদল এলাকার সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল এবং ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন সচিব।
এ সময় নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সেতু নির্মাণের কারিগরি বিষয়, নদীর নাব্যতা, যানবাহনের চাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতু সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘নেছারাবাদ পিরোজপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। এ এলাকায় সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সে কারণেই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি। এরপর সেতুর দৈর্ঘ্য, নির্মাণ ব্যয় ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করে প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে নেছারাবাদ, কাউখালী, নাজিরপুর ও বানারীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে নতুন গতি আসবে।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, ‘নদীটি উপজেলার একটি বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। সেতু নির্মিত হলে দুই লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণ হলে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।’