শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে ঢুকে এক অফিস সহকারীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা।
ভুক্তভোগী ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। প্রকৌশলী অফিসে না থাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে তৌফিকুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে মতিউর রহমান সাগর নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তার শার্টের কলার চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মারধরের সময় মতিউর রহমান বলেন, ‘উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী ও উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রুমিকে মারার জন্য আসছিলাম। তাদের না পেয়ে তোকেই নমুনা দেখিয়ে গেলাম।’ এ সময় অফিস সহায়ক মো. সজিব হোসেন ও অফিস সহকারী মো. সামসুদ্দিন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। কার্যালয় ত্যাগের সময় মামলা করলে আবারও মারধর এবং অফিসে থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মতিউর রহমান অফিসে এসে কর্মকর্তাদের না পেয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হয়ে আমাকে মারধর ও হুমকি-ধমকি দেন। আমার শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় দেন। নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মামলা না করার জন্যও হুমকি দেন। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে মতিউর রহমান সাগর বলেন, ‘মারধরের প্রশ্নই আসে না। গত ছয় মাসেও আমি উপজেলা কার্যালয়ে যাইনি। নড়িয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি তাদের দিয়ে এগুলো করাচ্ছেন। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে আমি মারধর করেছি তাহলে তাকে পুরুষ্কার দেওয়া হবে।’
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, ‘এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে মারধর ও হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’