Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিদেশি পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা, ৩ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৮ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২৬ ২৩:৩৭

কক্সবাজার জেলা জজ আদালত।

কক্সবাজার: জেলায় বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি কটেজ মালিককে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পেঁচার দ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর (২৬) এবং এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৬)। একই মামলার অপর আসামি, কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশাররফ হোসেন টিটু। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মঈন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা ব্রুক এলিয়ট। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশের ‘গুড ভাইব কটেজ’ এ ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে দণ্ডিত তিন আসামি কটেজে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই নারী পর্যটকের মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে কোনোভাবে কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মী আবদুল গফুর অপর দুই আসামি বেলাল উদ্দিন ও আনছারুল্লাহকে সেখানে ডেকে আনেন। তারা প্রথমে চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে একা থাকা বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ৩ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর