Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় কলেজ অধ্যক্ষসহ ৯ জনকে অব্যাহতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
৬ জুলাই ২০২৬ ২০:৩৫ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২৬ ২৩:৪০

ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা: জেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্তদের মধ্যে ওই কলেজের অধ্যক্ষ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারও রয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন সই করা এক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

একই চিঠিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে উত্তরপত্রগুলো সশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। এছাড়া কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা ওই কলেজের ৭জন প্রভাষক হলেন— শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট অনিয়মিত (২০২৫ সালের সিলেবাস) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ জন। কিন্তু গত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিতে নিয়মিত (২০২৬ সালের সিলেবাস) ৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা সেই ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুঠোফোনে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী বিষয়টি চরম দায়িত্ব অবহেলার শামিল। পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।

এদিকে শিক্ষা বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষাটি ভুল প্রশ্নে নেওয়া হলেও নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী অন্যান্য সব বিষয়ের পরীক্ষা যথারীতি ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাস অনুযায়ীই নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর