Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোলার চরে ফের অস্ত্রের মুখে ২৩ মহিষ ডাকাতির অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৫:৪৫ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৫:৪৯

মহিষ।

ভোলা: ভোলার মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর ৪ নম্বর শিট এলাকার চরে অস্ত্রের মুখে ট্রলারে করে ২৩টি মহিষ ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত বাথানে হানা দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে রাখালদের তাড়িয়ে মহিষগুলো লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মহিষগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুই থেকে তিনটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ডাকাত দল চরে আসে। বাথানে পৌঁছে তারা ১-২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পাহারাদার ও রাখালরা পাশের বনে আশ্রয় নেয়। পরে ডাকাতরা বাথান থেকে ২৩টি বড় মাদী মহিষ ট্রলারে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

মালিকপক্ষ জানিয়েছে, লুট হওয়া মহিষগুলোর মধ্যে অলি ঘোষের সাতটি, ফয়সাল জমাদারের চারটি, মিজান হাওলাদারের তিনটি, দুলাল মিয়ার তিনটি, জসিমের দু’টি, জুয়েল হাওলাদারের দু’টি এবং বাহার ঘোষের একটি মহিষ রয়েছে।

মহিষের মালিকেরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের ডাকাতির পেছনে মেঘনার দীর্ঘদিনের জলদস্যু চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার সঙ্গে পাতার চরের বাসিন্দা মেন্টু খাঁ ও তার বাহিনী জড়িত। ভুক্তভোগীদের সন্দেহ, এই চক্রের সঙ্গে ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সোর্সের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, চাইলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ডাকাতদের ধরতে পারেন। এ ছাড়া, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু অসাধু ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। লুট হওয়া মহিষগুলো দৌলতখানের মদনপুর থেকে উত্তরের ভোলার চর, পাতার চর কিংবা পাতার খালের দিকে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ভোলার চরাঞ্চলে ছোটো-বড় গরু ও মহিষ মিলিয়ে সহস্রাধিক গবাদিপশু চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, ওই সময়ের পর চরাঞ্চলে মহিষ চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

তারা জানান, ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের নতুন চর হোসেন এলাকায় প্রায়ই মহিষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। গত ১৯ জুন ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বনি আমিন ফরাজির দু’টি এবং মো. হোসেন ফরাজির একটি মহিষ কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা সেগুলো নামমাত্র মূল্যে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। একই ইউনিয়নের চরমোহাম্মদ এলাকায়ও কিছুদিন আগে তিনটি মহিষ চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এর আগে, গত ১৭ জুন মনপুরার দুর্গম চর বইশা থেকে লুট হওয়া ১৫টি মহিষ উদ্ধার করে পুলিশ। মহিষগুলো ১৬ জুন রাতে চরফ্যাশন উপজেলার মনপুরা-সংলগ্ন দুর্গম চর নিজাম থেকে লুট হয়েছিল। এ ঘটনায় মহিষগুলোর দেখাশোনাকারী পরিমল চন্দ্র দাস একজনকে আসামি করে মনপুরা থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি ছিলেন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মো. আবদুর রহিম। পরে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মহিষগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

ভোলার ইলিশা নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, মাঝের চর বা মদনপুর থেকে ২৩টি মহিষ চুরির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে কেউ কিছু জানায়নি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রথম দেখেছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চরাঞ্চল বা স্থলভাগ আমাদের আইনি সীমানার (জুরিসডিকশন) মধ্যে পড়ে না, আমাদের কাজ মূলত জলসীমায়। তবে মালিকপক্ষ যদি দ্রুত তথ্য দিত, তাহলে আমরা চারপাশের সব ইউনিটকে অ্যালার্ট করে মহিষগুলো উদ্ধারে তৎপরতা চালাতে পারতাম।’

নদীপথে সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি মহিষের মালিকদের আরও সচেতন থাকার এবং নিজস্ব পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শও দিয়েছেন।

এ ছাড়া ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাবাংলা/এআর