Tuesday 16 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হাড়িভাঙ্গার বিপণন শুরু, ২৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য সম্ভাবনা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুন ২০২৬ ০৮:১১

হাড়িভাঙ্গা আম। ফাইল ছবি

রংপুর: দেশজুড়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আমের আনুষ্ঠানিক বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে একটি বাগান থেকে আম পেড়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তবে শিলাবৃষ্টিতে ফলন কিছুটা কমলেও আকার বড় হওয়ায় ন্যায্য দাম পেতে আশাবাদী চাষি ও কৃষি বিভাগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম, কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম রাকিবুল হাসান ফেরদৌসসহ স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

পরে জেলা প্রশাসক পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাঁড়িভাঙ্গা আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এবং পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপণনের সময় রাস্তাঘাটের সমস্যা, ব্যাংক সুবিধার অভাব, হাটের শেড, ওয়াশ ফ্যাসিলিটি, হিমাগার স্থাপন এবং জিআই পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান। হাঁড়িভাঙ্গা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবহনে বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তারা।

জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন এসব দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের রফতানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ, ওয়াশ ব্লক তৈরি, ব্যাংকের শাখা স্থাপন, ম্যাংগো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

হাড়িভাঙ্গা আম পেড়ে বিপণন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

হাড়িভাঙ্গা আম পেড়ে বিপণন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, প্রথম দিনে পদাগঞ্জ হাটে বিপুল পরিমাণ হাঁড়িভাঙ্গা আম আমদানি হলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে বিক্রি জমে ওঠেনি। তবে উদ্বোধনের পর পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়। বিক্রেতারা জানান, প্রতি মণ হাঁড়িভাঙ্গা আম ১৪০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবার শিলাবৃষ্টিতে আম ঝরে যাওয়ায় ফলন ৩০ শতাংশ কমে গেছে, তাই দাম বৃদ্ধি না হলে লোকসানের মুখে পড়বেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার যেহেতু আমের ফলন একটু কমেছে, তবে আকার বড় হয়েছে। সেই কারণে এবার কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন। শুরুর দিকে সামান্য দাম কম থাকলেও প্রতিদিনই আমের দাম বাড়বে বলেও আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, এ বছর জেলায় তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য হবে। তবে বৈশাখের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কিছু এলাকায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন চাষিরা।

উল্লেখ্য, হাঁড়িভাঙ্গা আমের বৈশিষ্ট্য হলো এটি আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এই আমের আঁটিও খুব ছোট ও চামড়া পাতলা। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২০০-৩০০ গ্রাম। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের উৎপত্তি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নে। জনশ্রুতি আছে, নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী এই আমের গোড়াপত্তন করেন। তার লাগানো হাঁড়িভাঙ্গা গাছটির বয়স এখন ৬৮ বছর।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর