Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ২১:৩৪

নিহত স্কুলছাত্র ফাহিম।

নোয়াখালী: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ওই স্কুলছাত্রের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গ্রেফতারকৃত হারুণ সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পুলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। ৫-৬ দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করে। এতে কয়েকদিন ধরে সেখানে মাদকের বেচা-কেনা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টার দিকে পাহারার অংশ হিসেবে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, হামলার পর ফাহিমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেনবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির মিয়া। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম সরকারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর