রাজবাড়ী: জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘বাসটি যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে দ্রুতগতিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরির ডালায় আঘাত করে এবং ডালা ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখানে কোন অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, সেটা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ ঘাট সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবে। তবে স্বাভাবিকভাবে আমাদের নজরে এখন পর্যন্ত কিছু পড়েনি।’
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের বড় এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। গত ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বাসডুবিতে ২৬ জনের প্রাণহানির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা ছিল, বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ফেরিতে ওঠার। বাসে অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ, শিশু বাচ্চা থাকে, সবাইকে বাস থেকে নামানো খুব কষ্টকর ব্যাপার। তারপরও আমরা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর চেষ্টা করেছি, যেটি দেশের ইতিহাসে ছিল না ‘
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। যেজন্য আমরা একটি এবং জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গাড়ির চালক ও হেলপার সুস্থ হলে জানা যাবে গাড়ির কোনো সমস্যা ছিল কি-না, চালকের কোনো সমস্যা ছিল কি-না বা গাড়ির ফিটনেসের কোনো সমস্যা ছিল কি-না। সে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, বাংলাদেশ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, রাজবাড়ী জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে ফেরিতে ওঠার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।