সাতক্ষীরা: প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। অতিষ্ঠ জনজীবন। ঘরের বাইরে সবখানে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল কর্মজীবী মানুষ। কাজের ফাঁকে পার্কে প্রাকৃতিক বাতাসে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে অনেকের। এক দিকে কাজের চাপ অন্য দিকে প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবনে হাঁসফাস অবস্থা। অস্বস্তি নেমে এসেছে জনবীবনে। বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। নাজেহাল জীব-বৈচিত্র্য।
রোদের উত্তাপে বাইরে বের হলেই চোখ-মুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে। ছুটে চলা কর্মব্যস্ত নগরবাসী, পথচারী, চালক, পেশাজীবী, নিম্নআয়ের দিনমজুর, শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। প্রাণীরাও গরম সইতে না পেরে আশপাশের ড্রেন বা জলাশয়ে নামছে একটু স্বস্তির আশায়। ছোট ছোট শিশুরা শরীরকে শীতল করতে ঝাপ দিচ্ছে পানিতে। উত্তপ্ত আবহাওয়া আর গুমোট পরিবেশে ভ্যাপসা গরম। গাছপালা কম থাকায় শহরাঞ্চলে এর মাত্রা অসহনীয়।
আবহাওয়া অফিস বলছে, সারা দিন রোদের উত্তাপে পড়ে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষেরা দেহের তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তা বা ফুটপাথ থেকে কিনছেন আখের রস, লেবু, বেলের শরবত, ডাবসহ ঠান্ডা পানীয়। যদিও এর মধ্যে ডাব ছাড়া অন্যগুলো অস্বাস্থ্যকর।
তারপরও তীব্র গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে ভ্যান রেখে বসে আছেন রহিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘সকালে কয়েকজন যাত্রী পেয়েছিলাম। একটু বেলা উঠলে ভ্যানে কোন যাত্রী উঠে না। তারপরও বসে থাকি, যদি কোনো যাত্রী পাই। গরমে বসে থাকলেও পানি পিপাসা লাগে। তাই মাঝে মধ্যে ফুটপাতের লেবুর শরবত খাই।’

গরমে পার্কে গাছের নিচে বসে প্রাণ জুড়াচ্ছেন মানুষ।
তীব্র দাবদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে জলকেলি করতে দেখা গেছে শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের দীঘিতে। সেখানে দেখা যায় ছোট, বড়, যুবক এবং বয়স্ক সব বয়সী মানুষজন সেখানে গোসলে নেমেছেন। গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায়। কেউ কেউ আবার পুকুরে ঝাপ দিচ্ছে। এরমধ্যে শিশু কিশোর বেশি।
কথা হয় ছোট্ট সাজিদের সঙ্গে সে জানায়, ‘বাসার মধ্যে অনেক গরম। বাসার ছাদও গরম হয়ে গেছে। তাই বন্ধুরা মিলে পুকুরে আসছি। অনেকক্ষণ লাফালাফি করেছি। মন চায় আরও পানিতে থাকি।’
সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের আবহাওয়াবিদ জুলফিকার আলি বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহ শুক্রবার (৫ জুন)পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে তারপর থেকে আবার গরমের মাত্রা কমে যাবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৬ থেকে ৭ তারিখে পরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া গরম থাকবে কিন্তু এতটা তীব্র গরম পড়বে না। কারণ সামনে বর্ষাকাল। তাপমাত্রা কমতে থাকবে।’