নেত্রকোনা: নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার সবুজ প্রকৃতি, একদিকে হাওর অঞ্চলের বিশাল উন্মুক্ত পরিবেশ এ জেলার বিচিত্র বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে সমতল ভূমিতে রয়েছে সনাতন ও ইসলাম ধর্মের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। মোঘল আমলের নিদর্শন ৮২৪ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী নেত্রকোনার দৃষ্টিনন্দন ‘হারুলিয়া মসজিদ’।
এলাকাবাসী জানান, হারুলিয়া আবার কারও মতে ‘গাইনের মসজিদ’ নামে এলাকায় অতি পরিচিত প্রতিষ্ঠান এটি। এটি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলাধীন মোজাফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে নিরিবিলি পরিবেশে জালিয়া হাওর পাড়ে অবস্থিত। মোঘল আমলের কারুকাজ আর নিদর্শনের স্থাপত্য এটি। জেলার অন্যান্য মসজিদ অপেক্ষা আলাদা সৌন্দর্যমণ্ডিত এক ইসলামি প্রতিষ্ঠান।
পুরোনো মসজিদ নির্মাণের সঠিক ইতিহাস আশেপাশের কেউ জানেন না। কবে কার অনুদানের ওপর নির্মিত হয়েছে তাও জানা নেই কারো। মসজিদটির দেয়ালে ফার্সিতে শাইখ মোহাম্মদ ইয়ারের নাম ও ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ লেখা রয়েছে। ফলে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর অনুসারী শাইখ মোহাম্মদ ইয়ার ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
ছোট আকারের এই মসজিদটি দেখলে মোঘল আমলের কথা স্মরণে এসে যায়। ওই আমলের স্থাপত্য শিল্পের সাথে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে। ৩ শতাংশ ভূমির ওপর স্থাপিত মসজিদটির চার কোনায় ৪টি পিলার রয়েছে, উপরিভাগে কলসি দিয়ে গম্বুজাকার কারুকার্য মণ্ডিত। পুরো ছাদ জুড়ে বিশাল একটি গম্বুজও রয়েছে। এর অবকাঠামো পোড়ামাটি, লালি, চুন, চিনি, চিটাগুড় দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ মসজিদের ভেতর মাত্র ১৮ জন ও ইমামসহ মোট ১৯ জন মুসুল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। মুসল্লিদের জন্য পাশে আরেকটি নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একদিকে মোঘল আমলের ন ইসলামি নিদর্শন অপরদিকে হাওড়ের উন্মুক্ত পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করে এখানে।
এলাকার মুসুল্লি রহিম খান জানান, এই মসজিদটিতে নামাজ পড়তে যেমন আলাদা এক অনুভূতি কাজ করে, তেমনি এর রয়েছে এক কলঙ্কিত ইতিহাস। কয়েক বছর আগে রাতের আঁধারে কে বা কারা মসজিদের ভেতরে সংরক্ষিত ফার্সিতে লেখাযুক্ত একটি বহু মূল্যবান ছয় থেকে সাত কেজি ওজনের কষ্টি পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। পাথরটি আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কমিটির সভাপতি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ইসলামি ঐতিহ্যের মোঘল আমলের নিদর্শন এই মসজিদ। এর পবিত্রতা সবাইকে রক্ষা করতে হবে। আর জরাজীর্ণ এ মসজিদটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মুসলমানদের দাবি, যেন দ্রুততম সময়ে এটি প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হয়। অন্যথায় অচিরেই বিলুপ্ত হতে পারে মুঘল আমলের নিদর্শন কারুকার্য মণ্ডিত এই মসজিদ।