সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী এলাকায় সোহানা পারভীন (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সোহানা পারভীন সদর উপজেলার দহাকুলা গ্রামের আব্দুল খলিলের মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, সোহানার স্বামী শেখ সাকিব হোসেন ও শাশুড়ি খালেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, সাকিবের সঙ্গে এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতো। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সোহানাকে মারধরও করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের জেরে সোহানার মৃত্যু হয়, পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে সোহানার মরদেহ ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই দম্পতির কলহের বিষয়টি এলাকায় পরিচিত ছিল। তবে সোহানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসীরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নিহতের স্বামী শেখ সাকিব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’