কুমিল্লা: কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কুমিল্লায় সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ১৬ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ৩৪ হাজার ৫০৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৪ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৬৫ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে।
গত ৩ মে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৬৫ টাকা দরে ক্রয় করবে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধন করা হচ্ছে। নিবন্ধিত কৃষকরা নির্ধারিত খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করলে তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করা হবে। এতে কৃষকরা সহজেই নিজেদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে মনিটরিং টিম কাজ করছে। কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের সরকারি গুদামে ধান বিক্রয়ে উৎসাহিত করছে।
কুমিল্লা জেলা খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদর্শ সদর উপজেলায় ৫৮২ মেট্রিক টন, সদর দক্ষিণে ৭৯৯, লালমাইয়ে ৭৬৮, বুড়িচংয়ে ৯৩৯, বরুড়ায় ১ হাজার ৩৩৩, চান্দিনায় ১ হাজার ১৩৩, হোমনায় ৫২৭, তিতাসে ৬৪৬, মেঘনায় ৩৯৫, দাউদকান্দিতে ৭২৭, মুরাদনগরে ১ হাজার ৬৮০, দেবিদ্বারে ১ হাজার ২৪২, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৮৫৪, চৌদ্দগ্রামে ১ হাজার ২২৮, মনোহরগঞ্জে ১ হাজার ১০৫, লাকসামে ৯১৩ এবং নাঙ্গলকোটে ১ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রব জিলানী বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। সরকারিভাবে যদি ১৪৪০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে পারি, তাহলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে। তবে এ বিষয়ে আরও প্রচারণা প্রয়োজন, যেন প্রান্তিক কৃষকরা সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারে।
আদর্শ সদর উপজেলার শিমরা গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজ প্রক্রিয়ায় ধান বিক্রি করতে পারে, সেদিকে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে কৃষকরা ভালো লাভবান হবে।
কুমিল্লার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ড বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে, যাতে বেশি সংখ্যক কৃষক এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সফলভাবে সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলার কৃষক, সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা মনে করেন, এভাবে সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ করলে কৃষকরা লাভবান হবে৷ এবং ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরো মনোনিবেশ করবে।