সিরাজগঞ্জ: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-পিআইও আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। যদিও আদেশটি গত ৭ মে জারি করা হলেও বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।
আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘আমরা আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম। তবে অফিসিয়াল কপি আজ হাতে পেয়েছি।’
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘দুদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে থাকায় সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিধি অনুসারে খোরপোষ ভাতা পাবেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের দিন ৪ মে থেকে এ আদেশ কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
এর আগে গত ৩ মে রাতে পাবনা শহরের বাসা থেকে দুদকের একটি বিশেষ দল আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি শাহজাদপুর উপজেলায় পিআইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ মে তার, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন এবং ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। পরে তারা ৩ জুলাই দুদকে সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এক কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে এক কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তা ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে এক কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তের একপর্যায়ে দুদক আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধেও অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায়। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার কাছে সম্পদের হিসাব তলব করা হয়। তিনি ৮ ডিসেম্বর সম্পদের বিবরণী জমা দেন।
দুদকের দাবি, অনুসন্ধানে জামাল উদ্দিন ফকিরের ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান আসামি এবং আবুল কালাম আজাদকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।