ঢাকা: জেলার নবাবগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ৮৯-এর উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে এক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হরিষকূল এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাজেদা ফাউন্ডেশন, এসএমএপি-জাইকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
মাঠ দিবসে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হানিফ হাওলাদার বলেন, “প্রচলিত ব্রি-২৯ ধানের তুলনায় ব্রি-৮৯ অনেক বেশি ফলনশীল। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকরা এই জাত থেকে অধিক লাভবান হতে পারবেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ ফলনশীল এই জাতের বিস্তার অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা ব্রি-ধান ৮৯-এর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে জানান, এই ধানের শীষ বড় ও দানার সংখ্যা বেশি। এছাড়া রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবং চাল চিকন হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রবিন্দ্রনাথ বাড়ৈ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের ঢাকা পশ্চিম অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার (সূচনা) সৈয়দ কামরুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ এলাকা ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হোসেন, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মনোরঞ্জন মন্ডল এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা সরদার দিপু। এসময় স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা বক্তব্য দেন।
মাঠ দিবসের এই আয়োজনে হরিষকূল এলাকার প্রায় দুই শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ব্রি-৮৯ ধানের উৎপাদন প্রযুক্তি, আধুনিক উপায়ে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের মাঠ দিবস প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।