Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাউবোর জলাশয় ভরাট করে গরুর খামার, সেচ সংকটে কৃষক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ মে ২০২৬ ২০:০৫

জলাশয় ভরাট করে তৈরি করা গরুর খামার।

পিরোজপুর: জেলার নাজিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা একটি জলাশয় ভরাট করে গরু মোটাতাজাকরণ খামার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝনঝনিয়া মৌজার জেএল নম্বর-১, এসএ-১১২/১৩৪, বিআরএস-৭৫৪ ও ২২৭ দাগভুক্ত ‘সাতলা বাগদা বেরিবাঁধ প্রকল্প’ এলাকার ৯৫ শতাংশ জলাশয় ২০১৬-১৯ সাল পর্যন্ত মাছ চাষের জন্য মো. নাঈম মোল্লা ও মো. শাহীন মোল্লার কাছে ইজারা দেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গোপালগঞ্জ কার্যালয়। জলাশয়টি অপদা সড়ক সংলগ্ন পাকুরতিয়া বাজার এলাকায় অবস্থিত।

বিজ্ঞাপন

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জলাশয়টিতে বালু ফেলে ভরাট করা হয়। পরে সেখানে গড়ে তোলা হয় গরু মোটাতাজাকরণ খামার। এতে জলাশয়ের স্বাভাবিক পানি ধারণ ও প্রবাহ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আগে খাল ও নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় জলাশয়টির মাধ্যমে ইরি-বোরো মৌসুমে সহজে কৃষিজমিতে সেচের পানি পৌঁছাত। বর্তমানে সেই প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আতাহার তালুকদার, মঞ্জু শেখ, টুটুল শেখ, রকিব শেখ ও সোহরাব ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কয়েকমাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

পাকুরতিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরাও খামারটির কারণে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান সড়কের পাশে গড়ে ওঠা খামার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বাজার এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. নাঈম মোল্লা ও মো. শাহীন মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জমিটির অবস্থান পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় হলেও সংশ্লিষ্ট জলাশয়টি গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।