বান্দরবান: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণ ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া ওই তরুণীকে কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার অধীন কলাতলী এলাকার হাইপারিয়ন সি পার্ল আবাসিক হোটেলের ৬/সি নম্বর কক্ষে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে তরুণীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। পাশাপাশি পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৫৩২৩) জব্দ করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ফাক্রিকাটা এলাকার সুরত আলমের ছেলে শামসুল আলম (৩৩) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার মমতাজ আহমেদের ছেলে শাহ আলম (৩৪)।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে চালক শাহ আলমের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে তরুণী ও অসহায় নারীদের কৌশলে পর্যটন এলাকায় নিয়ে আসা হতো বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের কাছে তারা ভদ্রবেশী হিসেবে পরিচিত হলেও আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তাদের কর্মকাণ্ডে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছিল।
এর আগে, তরুণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি পুলিশ স্টেশনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
উদ্ধার হওয়া তরুণী, আটক ব্যক্তিরা এবং জব্দ করা আলামত কক্সবাজার সদর পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।