পিরোজপুর: পিরোজপুরে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে মো. সুমন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস. এম. মনিরুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন হাওলাদার জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার জুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হামেদ হাওলাদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম একই উপজেলার জুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পারিবারিক সমস্যার কারণে সে তার মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামি প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ৩ মার্চ, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল ছুটির পর সুমন হাওলাদার জোরপূর্বক তাকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ভিকটিম বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তার মামাকে জানায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও ভিকটিমের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ ভান্ডারিয়া থানায় সুমন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সরদার শাহজাহান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির।