Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গাইবান্ধায় টানা বর্ষণে জলমগ্ন ধানখেত, শ্রমিক সংকটে বিপাকে চাষিরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৮ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৭

পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকেরা।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের শত-শত হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। এ অবস্থায় ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরির কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কোথাও সাময়িক স্বস্তি মিললেও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে পলাশবাড়ী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পলাশবাড়ীর রাইতি নরাইল, নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিণাবাড়ি, বেতকাপা ও তুলশীঘাটসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে আধাপাকা ধান পানির নিচে রয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ধান কাটছেন।

বিজ্ঞাপন

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাবাড়ী গ্রামের সোলাগাড়ি বিলে গিয়ে কয়েকজন কৃষক জানান, বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা থাকলেও কয়েক বছর আগে সেখানে একটি ইটভাটা নির্মাণ করায় নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে বিঘাপ্রতি ধান কাটতে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে পানি জমে থাকায় ধান দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হরিণাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া হলেও এবার ধান বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়ে পানির নিচে ডুবে আছে ধান। প্রায় ৪০ শতক জমির ধান পানিতে নুয়ে পড়েছে।’

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ২১২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আক্রান্ত জমিগুলোর ক্ষতি হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর