পঞ্চগড়: জেলার বোদা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক হবিবুর রহমান (৫৮) কে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিকেল ৩টায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেংহারী সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন শিক্ষক। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা বিদ্যালয় ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় ভয়ে তিনি একটি টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন তিনি।
পরে খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শাস্তির দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই প্রশাসনের কাছে। কোনো শিক্ষকের কাছে এমন আচরণ আমরা আশা করি না।’
বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখতে পাই। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে রক্ষায় টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তাকে উদ্ধার ও আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে বদলি করা হবে।’