চট্টগ্রাম: জেলার ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান শনিবার আবারও ফিরে পেল তার চিরচেনা রূপ। ঢোলের তালে তালে, হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে আর বৈশাখী মেলার প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এই উৎসবমুখর আবহেই অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। আর সেই আসরে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ।
ফাইনালে রাশেদ বলীকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো জব্বারের বলীখেলার চ্যাম্পিয়ন হলেন বাঘা শরীফ।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে লালদীঘি মাঠে তার এই কীর্তিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকেরা।
এদিকে ফাইনাল ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। গত দুই আসরের মতো এবারও শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও রাশেদ। শুরু থেকেই দুজনই ছিলেন আক্রমণাত্মক। শক্তি, কৌশল আর ধৈর্যের এক দারুণ প্রদর্শনী উপহার দেন তারা। টানটান উত্তেজনার ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের লড়াই শেষে রাশেদকে পরাজিত করে বিজয়ের হাসি হাসেন বাঘা শরীফ।
ফাইনালে ওঠার পথে প্রথম সেমিফাইনালে রাশেদ বলী হারান মিঠুকে। অন্য সেমিফাইনালে বাঘা শরীফের প্রতিপক্ষ ছিলেন শাহ জালাল।
তবে সেই লড়াই সমঝোতার ভিত্তিতে শেষ হলে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও রাশেদ।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পেয়েছেন মিঠু। এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশ নেন ১০৮ জন বলী। তাদের অংশগ্রহণে দিনভর জমে ওঠে প্রতিটি লড়াই।

বাঘা শরীফ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে রানারআপ রাশেদ বলীর বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামে। কুমিল্লার দুই বলীর এই লড়াই যেন আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এবারের আসরে।
শুধু বলীখেলাই নয়, লালদীঘি মাঠসংলগ্ন বৈশাখী মেলাও ছিল মানুষের মিলনমেলায় পরিণত। দিনভর কেনাকাটা, বাহারি পণ্যের পসরা, মুখরোচক খাবারের স্টল আর নানা বিনোদনের আয়োজন ঘিরে সেখানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের পদচারণায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবের নগরী।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন কতোয়ালী ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনসহ অতিথিরা। এবারের আসরের টাইটেল স্পন্সর ছিল বাংলালিংক।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ ক্রীড়ার অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে জব্বারের বলীখেলা। সেই ঐতিহ্যের মঞ্চে এবারও নিজের নাম সোনালি অক্ষরে লিখে রাখলেন বাঘা শরীফ।