যশোর: যশোরে এক কর্মী সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন—ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোতে পায়ে পাড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত কোনো কিছুই মানুষ সহ্য করবে না এবং যারা অরাজকতা করছে তাদের জন্য সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে যারা নির্যাতিত হয়েছিল এবং সাংবাদিকরা যাদের সহায়তা করেছিলেন, এখন তারাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’
ক্যাম্পাসে সংগঠনের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ধৈর্য ধারণ করছি। এর মানে এই নয় যে আমাদের শক্তি নাই। আমরা কিছু বলছি না দেখে এটাকে আমাদের দুর্বলতা ভাবা হচ্ছে।’
ক্রিকেটের উপমা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফাস্ট বোলাররা যেমন গতি বাড়াতে রানআপ নেওয়ার জন্য পেছনে যায়, ছাত্রশিবিরও এখন সেই অবস্থানে রয়েছে। অতিরঞ্জিত কিছু হলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না।’
ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর সংগঠনটি কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করেনি এবং মাদক ও গেস্টরুম সংস্কৃতি নির্মূল করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সিট বণ্টন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট পাচ্ছেন।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশ বাতিল, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল এবং ব্যাংক রেগুলেশন নিজেদের মতো পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও আইনি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এসব আড়াল করতেই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে।’
সমাবেশে ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি এম. মিনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর এবং সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।