কুমিল্লা: কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে রায়হান নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত রায়হান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল শিশুটি। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ এপ্রিল রাতে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। তবে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ছিল। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টানা তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শিশুটির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত চার মাসে কুমিল্লা জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ সময় জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিম।
শনাক্ত রোগীদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং জ্বর-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহামেদ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।