বেনাপোল (যশোর): খুলনা ২১ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে গত সাড়ে তিন মাসে ৯১ জন আসামিসহ প্রায় ৬৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে তারা।
খুলনা ও কুষ্টিয়া সেক্টরের অধীনে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ এলাকায় সাতটি ইউনিটের ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধ, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশু চোরাচালান রোধ, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দায়িত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানির যানবাহনে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চোরাচালানের রুট চিহ্নিত করে ২ হাজার ৫৫০টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল, ৯১৩টি বিশেষ চেকপোস্ট এবং ৮৮৪টি মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩৩টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দু’জনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালকের ভিশন তুলে ধরে বলা হয়, ‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।’
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।