শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে খাদ্যগুদাম থেকে বের হওয়া ৪০০ বস্তা সরকারি চাল নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা ট্রাকসহ চাল আটক করলেও কয়েক ঘণ্টা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রাতে চালগুলো আবার গুদামে নেওয়া হয়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলসমৃদ্ধ অন্তত ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি শহরের পালং মডেল থানা-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা সেটি থামায়। এ সময় চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল বলে জানানো হয়। তবে চালানের কাগজপত্র দেখতে চাইলে চালক ও হেলপার সটকে পড়েন।
পরে গুদাম-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালানফরম দেখিয়ে জানান, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের ‘মানিক মাহমুদ খাদ্য বান্ধব’ নামের ডিলারের জন্য বরাদ্দ ২৪ মেট্রিক টন চালের অংশ। তবে ওই ডিলারের মালিক চালগুলো তার নয় বলে জানানোর পর সন্দেহ আরও বাড়ে।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি অবহিত করার পরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সন্ধ্যায় পালং মডেল থানা পুলিশ ট্রাকসহ চাল থানার গেটে নিয়ে যায়। পরে একই চালানফরম দেখিয়ে চালগুলো ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় স্থানীয়রা আবারও ট্রাকটি আটকে দেন।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানিক মাহমুদ খাদ্য বান্ধবের ডিলারের ম্যানেজার আরমান আলী নামের একজন কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। পরে উপজেলা খাদ্য অফিসার এসে কাগজপত্রকে সঠিক বলায় আমরা চাল ছেড়ে দিয়েছি।’
এদিকে, রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলম চালগুলো গুদামে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন। পরে রাতের মধ্যে ট্রাকসহ চালগুলো গুদামে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন ব্যাপারি ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘দিনের বেলা চাল আটক করা হয়েছে, প্রশাসনের কেউ আসেনি। অথচ রাতের আধারে থানা থেকে চালসহ সেই গাড়ি কীভাবে বের করা হলো, আমরা জানতে চাই। তদন্ত করা হলে সব বের হয়ে আসবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা চালগুলো জব্দ করে নিয়ে আসছি। এরইমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে অনিয়ম রয়েছে কি না তা তদন্ত করা হবে। এবং এটাও তদন্ত করে দেখা হবে, এটা খাদ্যবান্ধব চাল নাকি অন্যকিছু। যদি কেউ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ চাল বের করে থাকে, তাহলে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ ছাড়া, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনকল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।