Tuesday 14 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইউপি সদস্যের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ যুবদল-ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৫

ইউপি সদস্য বিজলি খাতুন।

পাবনা: পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বনওয়ারীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য মোছা. বিজলি খাতুনের কাছে চাঁদা দাবি এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভুক্তভোগী বিজলি খাতুন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি নিজেকে ‘তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অভিযোগে উল্লেখ করেন, সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণে তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে উপজেলা পরিষদের এক সাধারণ সভায় বনওয়ারীনগর বাজারের একটি দোকান-সংলগ্ন এলাকায় আধা শতাংশ জমি বিজলি খাতুনকে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় থাকা দু’টি ছোটো বন কড়াই গাছ অপসারণ করে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিতেই বাধার মুখে পড়েন তিনি। বিজলি খাতুনের অভিযোগ, স্থানীয় আমিন উদ্দিন সাবেরী (উপজেলা যুবদলের সদস্য), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাজিবুল হক পান্তু এবং বনওয়ারীনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক টিপুসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কাজে বাধা দেন এবং চাঁদা দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য বিজলি খাতুন বলেন, ‘আমি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। অথচ আজ আমি নিজ এলাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরও আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, উল্টো চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বিজলি খাতুন অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (অফিসার ইন চার্জ) বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমিন উদ্দিন সাবেরী ও রাজিবুল হক পান্তুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে; তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়েও সরকারি জমি বুঝে পেতে যদি এমন বাধার মুখে পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। এ ছাড়া, দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিজলি খাতুনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন তারা।