Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৭ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩০

কক্সবাজার: জেলায় ছোঁয়াচে রোগ হামে আক্রান্ত হয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪ শিশুর মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ও সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় মারা যাওয়া শিশুটি ৭ মাস বয়সী রৌশনী। সে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার আজিজুল হকের মেয়ে। এর আগে সকালে মারা যায় ৯ মাস বয়সী জেসিন। সে মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা নাসিরের কন্যা। এর আগের দিন একই উপজেলার ৭ মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া মঙ্গলবার আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

নিহত রৌশনীর মা মরিয়ম বেগম বলেন, তার দুটি জমজ সন্তান। হঠাৎ জ্বর ও সর্দি হলে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে দেওয়া ওষুধ প্রায় সাত দিন খাওয়ানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে আরেক চিকিৎসকের পরামর্শে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘ঈদের পরদিন থেকে হাসপাতালে আছি। আজ আমার এক মেয়ে রৌশনী মারা গেছে। আরেকজনেরও জ্বর কমছে না।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড ও আলাদা নার্সিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে হামের প্রকোপ বাড়ছে। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৪২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি শুরু হয়েছে এবং তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে পাঁচটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হাম প্রতিরোধে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর