Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কক্সবাজারে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৮ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৪৮

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা। ফাইল ছবি

কক্সবাজার: কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ২ জনের মৃত্যু হলো।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত শিশুটি সাত মাস বয়সী হিরা মনি। সে মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের মেয়ে। গত ৩০ মার্চ তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটি হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা জনিত জটিলতায় ভুগছিল। খেতে না পারায় তাকে নলের মাধ্যমে খাদ্য দেওয়া হচ্ছিল। তবে অভিভাবকের অসাবধানতায় মুখে খাবার দেওয়ার সময় তা শ্বাসনালীতে চলে গেলে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ওই শিশুটিও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় ভুগছিল এবং অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।

এদিকে কক্সবাজারে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক হাম রোগ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে বুধবার পর্যন্ত ৩৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও আরও তিন শিশু ভর্তি আছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের রোগীদের জন্য সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড ও নার্সিং ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ডা. শহিদুল আলম বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই দফায় দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুধুমাত্র এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ১১৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সমন্বিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর