প্রিয় ব্র্যান্ডের সাধের লিপস্টিকটি হাত থেকে পড়ে হুট করে দু-টুকরো হয়ে গেলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে শেডটি যদি হয় আপনার ভীষণ পছন্দের কিংবা বেশ চড়া দামের, তবে আফসোসের সীমা থাকে না। সাজগোজ ভালোবাসেন অথচ লিপস্টিক ভাঙার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অনেক সময় একটু বেশি চাপ লাগলে কিংবা অসাবধানতাবশত ড্রয়ার থেকে পড়ে গিয়ে সাধের প্রসাধনটি ভেঙে যায়। তবে আশার কথা হলো, লিপস্টিক ভেঙে যাওয়া মানেই কিন্তু তা আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া নয়। সামান্য কিছু সহজ এবং বৈজ্ঞানিক কৌশল জানা থাকলে ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে ভাঙা লিপস্টিককে একদম আগের মতো নতুনের মতো করে তোলা সম্ভব। লাইফস্টাইলের আজকের আয়োজনে থাকছে ভাঙা লিপস্টিক জোড়া লাগানোর এবং পুনরায় ব্যবহারের দারুণ কিছু ঘরোয়া টিপস।
লাইটারের মৃদু আঁচে ভাঙা অংশ জোড়া লাগানোর সহজ পদ্ধতি
লিপস্টিক যদি গোড়া থেকে বা মাঝখান থেকে ভেঙে যায়, তবে মোমবাতি বা লাইটারের মৃদু তাপ ব্যবহার করে এটিকে খুব সহজেই আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই পদ্ধতির জন্য প্রথমে ভাঙা টুকরো দুটিকে একটি পরিষ্কার টিস্যু পেপারের ওপর রাখুন, যাতে কোনো ধরনের ধুলোবালি না লাগে। এবার লিপস্টিক টিউবের ভেতরে থাকা অবশিষ্ট অংশের ওপরের দিকে লাইটার বা মোমবাতির শিখা দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ড হালকা তাপ দিন। খেয়াল রাখবেন, সরাসরি আগুনের শিখায় যেন লিপস্টিক পুড়ে না যায়, শুধু সামান্য গলে যাওয়ার মতো মৃদু আঁচ দিতে হবে। টিউবের ভেতরের অংশটি যখন কিছুটা নরম ও আঠালো হয়ে উঠবে, তখন ভাঙা টুকরোটিকে সাবধানে তার ওপর বসিয়ে হালকা হাতে চেপে দিন। এরপর একটি টুথপিক বা কটন বাড দিয়ে জোড়া লাগা অংশের চারপাশটা একটু সমান করে দিন যাতে দেখতে সুন্দর লাগে। সবশেষে টিউবের ক্যাপটি আটকে রেফ্রিজারেটরে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। ঠান্ডা তাপে লিপস্টিকটি শক্ত হয়ে জমে যাবে এবং আপনি আগের মতোই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
মেল্টিং প্রসেস বা লিপ প্যালেটে রূপান্তরের জাদুকরী টেকনিক
যদি আপনার লিপস্টিকটি একদম গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে যায় কিংবা একাধিক টুকরো হয়ে যায় যা জোড়া দেওয়া অসম্ভব, তবে সেটিকে লিপ প্যালেট বা লিপ বামের কৌটোয় রূপান্তর করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এই পদ্ধতিতে প্রথমে ভাঙা লিপস্টিকের সবটুকু অংশ একটি ছোটো স্টিল বা কাঁচের বাটিতে চামচ দিয়ে ভালো করে ম্যাশ বা গুঁড়ো করে নিন। এবার একটি মোমবাতির ওপর বাটিটি ধরে ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে (ফুটন্ত জলের ওপর বাটি রেখে) লিপস্টিকটি সম্পূর্ণ গলিয়ে তরল করে ফেলুন। সম্পূর্ণ গলে যাওয়ার পর যদি চান এটিকে আরও ময়েশ্চারাইজিং করতে, তবে এর সঙ্গে সামান্য একটু পেট্রোলিয়াম জেলি বা নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এবার এই তরল মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার, ছোটো লিপ বামের খালি কৌটো বা আইশ্যাডো প্যালেটের খালি ঘরে ঢেলে দিন। ঢালার পর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কিছুক্ষণ রেখে দিন এবং পুরোপুরি সেট করার জন্য এক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রাখুন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল আপনার নিজস্ব লিপ পট বা প্যালেট, যা আপনি লিপ ব্রাশ বা আঙুলের সাহায্যে খুব সহজেই ঠোঁটে লাগিয়ে নিতে পারবেন।
নষ্ট হওয়া লিপস্টিককে লিকুইড লিপ কালার বানানোর চতুর উপায়
আজকাল ম্যাট বা লিকুইড লিপস্টিকের ট্রেন্ড বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে, তাই ভাঙা বুলেট লিপস্টিককে চাইলেই আপনি ঘরে বসে ট্রেন্ডি লিকুইড লিপ কালারে রূপান্তর করতে পারেন। ভাঙা লিপস্টিকের টুকরোগুলোকে একটি পাত্রে নিয়ে সামান্য তাপ দিয়ে সম্পূর্ণ তরল করে নিন। এবার এর সাথে কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল, জোজোবা অয়েল কিংবা আপনার পছন্দের ফেসিয়াল অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন। তেল মেশানোর কারণে লিপস্টিকের শুষ্কতা কেটে যাবে এবং এটি ঠোঁটে খুব মসৃণভাবে বসবে। মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর একটি পরিষ্কার পুরোনো লিকুইড লিপস্টিকের খালি টিউব বা ছোটো ড্রপার বোতলে ঢেলে রাখুন। ব্যবহারের আগে হালকা ঝাঁকিয়ে নিলেই এটি একদম বাজারের নামী ব্র্যান্ডের লিকুইড লিপস্টিকের মতো কাজ করবে, যা একই সাথে আপনার ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখবে এবং দেবে একটি চমৎকার গ্লসি বা সেমি-ম্যাট ফিনিশ।
লিপস্টিক দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ও ভাঙা রোধে কিছু জরুরি সতর্কতা
প্রসাধন সামগ্রী শুধু ব্যবহার করলেই হয় না, সেগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণও সমান জরুরি যাতে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং হুট করে ভেঙে না যায়। লিপস্টিক সবসময় সরাসরি সূর্যের আলো এবং অতিরিক্ত গরম জায়গা থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত, কারণ অতিরিক্ত গরমে লিপস্টিকের ভেতরের মোম গলে গিয়ে নরম হয়ে যায় এবং ব্যবহারের সময় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ব্যাগে লিপস্টিক বহনের সময় খেয়াল রাখুন যেন তা অতিরিক্ত ঝাঁকুনির শিকার না হয়। এছাড়া, ঠোঁটে লাগানোর সময় পুরো লিপস্টিকটি টিউব থেকে বের না করে, ঠিক যতটুকু প্রয়োজন,অর্থাৎ সামান্য একটু অংশ বের করে অ্যাপ্লাই করুন। লিপস্টিকের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে বা এর গন্ধ ও টেক্সচারে পরিবর্তন এলে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক। এই ছোটো ছোটো সচেতনতাগুলো মেনে চললে আপনার সাধের সাজগোজের অনুষঙ্গটি থাকবে একদম সুরক্ষিত।