আজান শুনে জবাব দেওয়া ইসলামের অত্যন্ত সওয়াব ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। তবে দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে অনেকেই সময়মতো আজানের জবাব দিতে পারেন না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা সংশয় ও প্রচলিত ধারণা রয়েছে, আজানের জবাব না দিলে গুনাহ হয় কি না বা আমল নষ্ট হয়ে যায় কি না। তবে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী আজানের জবাব দেওয়া একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা মোস্তাহাব আমল; এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। ফলে জবাব না দিলে কোনো গুনাহ হবে না।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ফকিহ ও আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো, আজানের উত্তর দেওয়া মোস্তাহাব। বিখ্যাত ফকিহ আল্লামা ইবনে কুদামা (রহ.) তাঁর ‘আল মুগনি’ গ্রন্থে লিখেছেন, আজানের জবাব মোস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে কোনো আলেমদের মধ্যে মতভেদ নেই।
যেহেতু এটি বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়, তাই কেউ আজানের জবাব না দিলে একটি মহান সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন, কিন্তু পাপী হবেন না। এর সঙ্গে নামাজের বৈধতারও কোনো সম্পর্ক নেই; আজানের জবাব না দিয়ে নামাজ পড়লেও তা সম্পূর্ণ সহিহ হবে।
আজান চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রেখে তা শোনা ও জবাব দেয়া শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। তবে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে এটি শিথিলযোগ্য। যেমন, চিকিৎসা দেওয়া, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা বা কাজ চালিয়ে গেলে কোনো শরয়ি বাধা নেই।
আজানের সময় কথা বললে নাকি ‘৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়’ বা ‘ঈমান ছাড়া মৃত্যু হয়’, সমাজে প্রচলিত এ জাতীয় কথার কোনো ভিত্তি সহিহ হাদিসে নেই। নির্ভরযোগ্য প্রখ্যাত আলেমরা এসব ধারণাকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করেছেন।
আজানের জবাব দেয়ার সুন্নাত পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিনের বাক্যের পুনরাবৃত্তি করা। কেবল ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’-এর জবাবে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলতে হয় (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)। আজান শেষে রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ এবং ‘ওসিলা’র দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল, যা কেয়ামতের দিন রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত লাভের সুযোগ এনে দেয়।