Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অজুর সাধারণ কিছু অসচেতনতা ও আমাদের করণীয়

সারাবাংলা ডেস্ক
১২ জুলাই ২০২৬ ১৩:৫৩

নামাজ কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন, যার প্রথম ধাপ হলো অজু। এটি কেবল নামাজের প্রস্তুতিই নয়, বরং নিজে নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। তবে অনেক সময়ই অসাবধানতার কারণে অজু করার সময় আমাদের দ্বারা এমন কিছু ভুল হয়ে যায়, যার ফলে অজুর সওয়াব কমে যায় কিংবা অজুই নষ্ট হয়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনে অজুর পূর্ণতা ধরে রাখতে যে বিষয়গুলোতে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ নামাজ কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন, যার প্রথম ধাপ হলো অজু।

আসুন জেনে নেই, অজুতে যে ভুল আমরা অনেকেই করে থাকি সেসব কিছু অসচেতনতা ও আমাদের করণীয় বিস্তারিত…

অতিরিক্ত পানির অপচয়

অজু করার সময় অবাধে পানি ব্যবহার করা আমাদের একটি বড় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই পুরো অজুর সময় জুড়ে ট্যাপের মুখ সম্পূর্ণ খুলে রাখেন, যার ফলে প্রয়োজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পানি অপচয় হয়। ইসলামে যেকোনো ভালো কাজেও অপচয়কে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। এমনকি রাসুলুল্লাহ (স.) এক সাহাবিকে নদীর তীরে বসে অজু করার সময়ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহারে সতর্ক করেছিলেন এবং একে অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (স.) মাত্র এক ‘মুদ’ (যা বর্তমান হিসাবে এক লিটারেরও কম) পানি দিয়ে সুন্নাহসম্মত উপায়ে অজু সম্পন্ন করতেন।

অজুর অঙ্গ শুকনো থাকা

অপচয় রোধ করার অর্থ এই নয় যে অজুর অঙ্গগুলো ভালো করে ধোয়া হবে না। তাড়াহুড়ো কিংবা অসতর্কতার কারণে অনেক সময় কনুই, পায়ের গোড়ালি বা নখের চারপাশের চামড়ায় পানি পৌঁছায় না। বিশেষ করে শীতের দিনে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

অজুর নির্দিষ্ট অঙ্গগুলোর কোনো একটি অংশ যদি সামান্য পরিমাণও শুকনো থাকে, তবে অজু সম্পূর্ণ হবে না। রাসুলুল্লাহ (স.) অজুর সময় পায়ের শুকনো গোড়ালি দেখে সাহাবিদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন এবং এমন ভুলের জন্য জাহান্নামের শাস্তির কথা উক্তি করেছিলেন।

নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত ধোয়া

সুন্নাত অনুযায়ী অজুর অঙ্গগুলো সর্বোচ্চ তিনবার ধোয়ার নিয়ম রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) পরিস্থিতিভেদে কোনো অঙ্গ একবার, দুবার বা তিনবার ধুয়েছেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তিনবারের বেশি ধোয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইসলামি গবেষকদের মতে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া তিনবারের বেশি পানি দিয়ে অঙ্গ ধোয়া সুন্নাহর পরিপন্থী ও মাকরুহ।

নিখুঁতভাবে অজু করার সহজ উপায়

পানি ব্যবহারের সময় ট্যাপের গতি একদম কমিয়ে রাখুন অথবা পাত্রে পানি নিয়ে অজু করুন।

প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় হাত দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন, যেন কোনো ভাঁজে বা কোণায় পানি পৌঁছাতে বাকি না থাকে।

সুন্নাহর অনুসরণে তিনবারের বেশি ধোয়া থেকে বিরত থাকুন।

গণশৌচাগার বা মসজিদের মতো ওয়াকফ করা পানি ব্যবহারের সময় আরও বেশি সাশ্রয়ী ও যত্নবান হোন।

অজু কেবল শরীরের বাহ্যিক ময়লা দূর করে না, বরং এর মাধ্যমে মানুষের ভেতরের ছোটখাটো গুনাহগুলোও ঝরে যায়। তাই অবহেলা বা অজ্ঞতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটিকে ত্রুটিযুক্ত না করে, পরিমিত পানির মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে অজু করাই একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর