Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নামাজে মন বসছে না? জেনে নিন আমল

সারাবাংলা ডেস্ক
৬ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৪

আমাদের অনেকেরই নামাজ পড়তে গেলে মন চঞ্চল হয়ে উঠে। যে কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এই মন চঞ্চল হওয়া কিংবা ইবাদতের প্রতি অনীহা আসা মানুষের স্বাভাবিক দুর্বলতা। এই সমস্যা দূর করতে এবং ইবাদতে আন্তরিকতা ফিরিয়ে আনতে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হয়। প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) তার এক প্রিয় সাহাবিকে এমন একটি চমৎকার প্রার্থনা শিখিয়েছিলেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে ইবাদতের স্বাদ ও একাগ্রতা দুটোই বৃদ্ধি পায়।

আসুন জেনে নেই সেই আমল…

ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর বিশেষ প্রার্থনা

নামাজে একাগ্রতা ও পড়ার ইচ্ছা জাগ্রত করতে নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করা উচিত:

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ’ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।

বিজ্ঞাপন

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার স্মরণ, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করুন।’

নিয়মিত এই আকুতি আল্লাহর দরবারে পেশ করলে নামাজের প্রতি অন্তরের টান ও মনোযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

নবীজির ভালোবাসা ও বিশেষ নির্দেশনা

হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার হাত ধরে অত্যন্ত ভালোবাসার সঙ্গে বললেন— ‘হে মুআজ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রতি নামাজের পর এই দোয়াটি পড়তে কখনো ভুলো না।’ (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে নাসায়ি)

নবীজির এই পরম স্নেহের নির্দেশনাটি প্রমাণ করে যে, নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ তাওফিক ছাড়া ইবাদত সুন্দর করা সম্ভব নয়।

পবিত্র কোরআনের দিকনির্দেশনা

নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুরা আল-বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তা বিনয়ী ও খোদাভীরু লোক ছাড়া অন্যদের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

সুরা আল-মুমিনুনের ১ ও ২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই সেই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী ও একাগ্রচিত্ত।’

এই আমলটি কখন করবেন?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী, এই দোয়াটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর পর পড়া নিয়ম। তবে নামাজের পর ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সময়ে নিজের ইবাদতকে সুন্দর করার উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে এই দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করা যায়।

উল্লেখ্য, ইবাদতের আনন্দ ও মনোযোগ মানুষের নিজের চেষ্টায় শতভাগ অর্জন করা সম্ভব নয়, যদি না তাতে ঐশ্বরিক সাহায্য থাকে। তাই অলসতা বা উদাসীনতা দেখা দিলে হতাশ না হয়ে নবীজির শেখানো এই গভীর অর্থবহ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি