নামের প্রথমে ব্যারিস্টার শব্দটি শুনতে কার না ভালো লাগে? ছোটবেলায় সিনেমাতে শুনতাম ‘কোটি টাকার ব্যারিস্টার’। কথাটি অনেকাংশে সত্যি; এ এক স্বপ্নের ডিগ্রি, এমনকি এ ডিগ্রী পাবার পর বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে ঘটা করে নিজের নাম প্রকাশিত হয়।তবে অনেকের প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অপূর্ণই থেকে যায় তাদের সেই স্বপ্ন। তাই আজকে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব।
ব্যারিস্টার ডিগ্রি পাবার জন্য যে বিষয়গুলো জানা জরুরী…
কারা মূলত এ ডিগ্রী প্রদান করে
শুধুমাত্র বিলেত বা যুক্তরাজ্য থেকেই এ ডিগ্রী প্রদান করা হয়। মূলত চারটি প্রতিষ্ঠান এ ডিগ্রী প্রদান করে থাকে_
1. The honorable society of Lincoln Inn
2. Gray’s Inn
3. Inner temple
4. Middle temple
এছাড়া যুক্তরাজ্যের গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয় এ ডিগ্রী প্রদান করে। বাংলাদেশ বৃটিশ উপনিবেশ হওয়ায় বাংলাদেশে এ ডিগ্রীর ব্যাপক কদর রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
১. বৃটিশ ল তে নূন্যতম অনার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী থাকলেও তাকে পুনরায় বৃটিশ ল তে স্নাতক ডিগ্রী শেষ করতে হবে। তবে বিটিটি (Bar Transfer Test) নামে একটি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে যেটি আমার কাছে মনে হয় তুলনামূলক জটিল। তাই হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা চাইলেও এ ডিগ্রী অর্জন করতে পারে না।
২. প্রতি বিষয়ে নূন্যতম ৬০% নম্বর থাকতে হবে; যেখানে পাশ নম্বর ৪০।
৩. আইইএলটিএস প্রতি মডিউলে সর্বনিম্ন ৭.৫ থাকতে হবে। অর্থাৎ ওভারঅল ৮ স্কোরের প্রস্তুতি নিতে হবে।
৪. ব্যারিস্টারি ডিগ্রিতে যুক্তরাজ্য কোনো প্রকার স্কলারশিপ প্রদান করে না। শুধুমাত্র ৯মাসের BPTC কোর্সের জন্য আনুমানিক ২০,০০০ পাউন্ড বা ৩৩ লক্ষ টাকা টিউশন ফি দিতে হয়।
বাংলাদেশী কিছু ইউকেভিআই বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃটিশ ল পড়ানো হয়। যেমন বৃটিশ স্কুল অব ল, ভূইয়া একাডেমি ইত্যাদি। যা তুলনামূলক অনেক ব্যয়বহুল। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এইসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর আপনাকে পুনরায় ব্যারিস্টার এট ল ডিগ্রি নেওয়ার জন্য লন্ডন যেতে হবে।
অধ্যবসায়
যেহেতু আন্তর্জাতিক মানের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে তাই পরিশ্রমী হতে হবে। বর্তমানে বার এট ল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফেল করার প্রবনতা বাড়ছে। তাই কঠিন অধ্যবসায়ী হবার কোনো বিকল্প নেই।
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা
প্রথমেই বলে রাখি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের কোন বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিষয়ে শতভাগ স্কলারশিপ প্রদান করে না। যেটি প্রদান করে সেটিকে আমি বলব ডিসকাউন্ট। আপনাকে ৩ বছরের স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করতে ডিসকাউন্ট বাদে প্রায় ৬০ হাজার পাউন্ড যা বাংলাদেশি টাকায় ৯৬ লাখ টাকা ইউনিভার্সিটিকে দিতে হবে। এছাড়াও বার এট ল ডিগ্রি নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে ২০ হাজার পাউন্ড বা ৩২ লাখ টাকা ইউনিভার্সিটিকে দিতে হবে। তবে খণ্ডকালীন চাকরি করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগান দেওয়া অসম্ভব। তাই স্কলারশিপ বাদেও বিপুল পরিমান টাকা আপনাকে ইউনিভার্সিটিকে দিতে হবে। তবে হ্যাঁ আমি মনে করি মানুষ তার স্বপ্নের থেকেও বড়। অনেক আগে থেকে সঠিক প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায় থাকলে আপনি ও হতে পারবেন একজন দক্ষ ব্যারিস্টার।
তাই ‘কোটি টাকার ব্যারিস্টার’ উক্তিটি অনেকাংশেই সত্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য