এবারের পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব সরকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এবারের হজে এমন কিছু নিয়ম জারি করা হয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে সেই নতুন নিয়ম ও জরুরি কিছু পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো…
সেলফি ও ভিডিও করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা
মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পবিত্রতা রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কাবার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা, ভিডিও করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের ছবি তোলা ধরা পড়লে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন হজযাত্রীরা। তাই ইবাদতের সময় মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
অপরিহার্য ‘নুসুক কার্ড’ ও অ্যাপের ব্যবহার
এবারের হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ‘নুসুক কার্ড’। এটি ডিজিটাল এবং ফিজিক্যাল, উভয় রূপেই হজযাত্রীদের সঙ্গে থাকতে হবে। মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার প্রতিটি প্রবেশপথে এই কার্ড যাচাই করা হবে। কার্ড ছাড়া কোনো হজযাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন না। এ ছাড়া মদিনায় রওজা শরীফ জিয়ারতের জন্য ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে আগেভাগেই সময় বা স্লট বুকিং দিতে হবে। পারমিট ছাড়া রওজা শরীফে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
ঐতিহাসিক স্থান জিয়ারতে নতুন শৃঙ্খলা
জাবালে নূর, জাবালে সাওর বা মসজিদে কুবার মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শনের ক্ষেত্রে এবার বিশেষ শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। হজ এজেন্সির অধীনে দলগতভাবে যাতায়াত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ে আরোহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তীব্র গরম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের হজের সময় সৌদি আরবে প্রচণ্ড তাপমাত্রা থাকবে। সুস্থতা বজায় রাখতে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে বা খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি না দেওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান এবং রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাধ্যতামূলক টিকা ও সনদ
হজে যাওয়ার আগে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ প্রয়োজনীয় সব টিকার ডিজিটাল সনদ নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবে প্রবেশের পর যেকোনো সময় এই সনদ যাচাই করা হতে পারে। এসব নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হজযাত্রীরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।
হজযাত্রীদের শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৩০ জুন নির্ধারিত রয়েছে। তাই নির্বিঘ্নে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সৌদি সরকারের এসব নির্দেশনা গুরুত্বের সাথে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।