Tuesday 21 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জিলকদ: প্রস্তুতি ও প্রাপ্তির মাস

সারাবাংলা ডেস্ক
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৭

ইসলামি ক্যালেন্ডারের একাদশ মাস জিলকদ। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ‘আশহুরে হুরুম’ বা চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। জিলকদ হলো মূলত আত্মশুদ্ধি, শান্তি এবং আসন্ন হজের জন্য নিজেকে তৈরি করার এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ।

কেন জিলকদ মাস এতো সম্মানিত?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটি… তার মধ্যে চারটি সম্মানিত।’ (সুরা তাওবা: ৩৬)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে, এই চারটি মাসের মধ্যে তিনটি ধারাবাহিক, জিলকদ, জিলহজ ও মহররম; আর চতুর্থটি হলো রজব। (সহিহ বুখারি: ৪৬৬২)

জিলকদ মাসের গৌরবময় ইতিহাস

এই মাসের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় ইতিহাসের কিছু যুগান্তকারী ঘটনা:

বিজ্ঞাপন

হুদায়বিয়ার সন্ধি: ইসলামের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী এই সন্ধি জিলকদ মাসেই হয়েছিল।

বাইয়াতে রেদওয়ান: রাসূল (সা.)-এর হাতে সাহাবিদের সেই ঐতিহাসিক শপথ এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয়।

নবীজির ওমরাহ: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের চারটি ওমরাহর প্রতিটিই জিলকদ মাসে পালন করেছিলেন (বিদায় হজের সাথে করা ওমরাহ বাদে)।

ভিত্তি স্থাপন: ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, ২৫ জিলকদ পবিত্র কাবার প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এবং এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।

মুমিনের জন্য জিলকদ মাসের ৭টি করণীয়

যেহেতু এটি সম্মানিত মাস, তাই এ সময়ে নেক আমলের সওয়াব যেমন বেশি, অবহেলার গুনাহও তেমন গুরুতর।

বেশি বেশি নফল ইবাদত: কোরআন তেলাওয়াত, জিকির এবং নফল নামাজের মাধ্যমে সময় কাটানো।

সুন্নাহসম্মত রোজা: প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং চঁাদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (আইয়ামে বিজ) রোজা রাখা।

তওবা ও ইস্তেগফার: বিগত দিনের ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চাওয়া।

হজের প্রস্তুতি: যারা এ বছর হজে যাচ্ছেন, তাদের জন্য হজের মাসয়ালা শেখার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

কোরবানির নিয়ত ও সঞ্চয়: সাধ্য অনুযায়ী কোরবানির জন্য অর্থ সঞ্চয় এবং নিয়তকে বিশুদ্ধ করা।

পাওনা পরিশোধ ও ক্ষমা: কারও ঋণ থাকলে তা শোধ করা এবং মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে সম্পর্ক সুন্দর করা।

তাকওয়ার চর্চা: প্রতিটি কাজে মহান আল্লাহকে ভয় করার মানসিকতা তৈরি করা।

বর্জনীয় ও ভিত্তিহীন কিছু কুসংস্কার

জিলকদ মাসকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি:

নিজেদের ওপর জুলুম না করা: অর্থাৎ গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে নিজের আমলনামা ভারী না করা।

মনগড়া আমল বর্জন: ‘বার চান্দের আমল’ জাতীয় অনির্ভরযোগ্য বইয়ের বিশেষ নিয়মের নামাজ বা নির্দিষ্ট সুরা পড়ার বিশেষ পদ্ধতির কোনো ভিত্তি হাদিসে নেই।

অশুভ ধারণা পরিহার: জিলকদ মাসে বিয়ে করা বা সফর করা অশুভ— এমন ধারণা পোষণ করা গুনাহ। ইসলামে কোনো মাস বা দিন অশুভ নয়।

জাল সওয়াবের আশা: ‘এক রোজা রাখলে হাজার বছরের নেকি’— এ জাতীয় ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সওয়াবের বর্ণনায় বিশ্বাস না করে বিশুদ্ধ সুন্নাহ অনুসরণ করা উচিত।

লৌকিকতা মুক্ত থাকা: হজ বা কোরবানির প্রস্তুতির সময় যেন কোনোভাবেই লোকদেখানো মানসিকতা (রিয়া) না আসে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

দুধ চা- সেই এক ইতিহাস!
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫০

আরো

সম্পর্কিত খবর