ইসলামি জীবনদর্শনে ঈমান আনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈমানের ওপর আমৃত্যু অবিচল থাকা। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার ‘ইস্তেকামাত’ বা দৃঢ়তা।
হজরত আবু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে ইসলামের এমন একটি কথা বলে দিন, যে বিষয়ে আপনার পর অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়। উত্তরে প্রিয় নবী (সা.) বললেন, “তুমি বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, অতঃপর তার ওপর অবিচল থাক।”’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮)
হাদিসের আলোকচ্ছটায় প্রাসঙ্গিক শিক্ষা
মুহাদ্দিস ও ওলামায়ে কেরাম উল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন…
আখেরাতমুখী জিজ্ঞাসা: উলামায়ে কেরাম ও আধ্যাত্মিক রাহবারদের (পির-মাশায়েখ) কাছে পার্থিব তুচ্ছ বিষয়ের তুলনায় পরকালীন মুক্তির পথ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা উত্তম। সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ ছিল, তাঁরা নবীজি (সা.)-এর কাছে সর্বদা পরকালীন সফলতার পাথেয় অন্বেষণ করতেন।
দ্বীনি রাহবারদের দায়িত্ব: একইভাবে পির-মাশায়েখ ও আলেমদের প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষকে ইহকালীন চাকচিক্যের চেয়ে পরকালীন কল্যাণের পথে বেশি দিশা দেওয়া। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ হলো উম্মতকে সর্বদা দুনিয়ার ওপর আখেরাতকে প্রাধান্য দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া।
ইস্তেকামাত বা দৃঢ়তার স্বরূপ: ঈমানের ওপর অনড় থাকার প্রকৃত অর্থ হলো, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, সুখে-দুঃখে বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া। প্রবৃত্তির চাহিদা বিসর্জন দিয়ে শররিয়তের অনুগত থাকাই হলো দৃঢ়তা।
ইহ-পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি: ঈমানের ওপর অবিচল থাকা কেবল পরকালেই নয়, বরং দুনিয়াতেও মুমিনের জীবনকে শান্তিময় করে। কোরআনের ভাষায়, যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ এবং তার ওপর দৃঢ় থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
গুনাহ থেকে সতর্কতা: গুনাহ বা পাপাচার মুমিন বান্দাকে ধীরে ধীরে ঈমানের সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। তাই ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে হলে এবং এর ওপর অটল থাকতে হলে ছোট-বড় সব ধরণের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। (মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)
ঈমানের ওপর দৃঢ়তা একটি মহান নেয়ামত। এটি অর্জনের জন্য নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, নেককারদের সাহচর্য এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা প্রয়োজন।