পাকিস্তানের রাজনীতি ও বিনোদন অঙ্গনে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিনেত্রী ও মডেল মোমিনা ইকবাল এবং দেশটির মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সাকিব চাধারকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক। অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ মে লাহোরের চুং থানায় সাকিব চাধারের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এতে প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোমিনা ইকবাল জানিয়েছেন, এমপিএ সাকিব চাধার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে মোমিনা জানতে পারেন যে সাকিব আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার দুজন স্ত্রী রয়েছেন। এই সত্য জানার পর অভিনেত্রী তার বিয়ের প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। আর এরপর থেকেই শুরু হয় সাকিবের রোষানল। মোমিনার দাবি, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই ওই রাজনীতিক তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার শুরু করেন।
শুধু মৌখিকভাবেই নয়, বরং মোমিনা এবং তার হবু স্বামীকে ফোনে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী। এমনকি মোমিনার বোনের ফোনেও আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অভিনেত্রী এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এ ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মোমিনা ও সাকিবের মামলার তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, চাপ বা হুমকি সহ্য করা হবে না। যেকোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রশাসন আপসহীন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন আইনি লড়াইয়ের পর পুরো ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সরব রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ।