ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের রূপকার ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছেন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। প্রিয় সহকর্মীর এই আকস্মিক অসুস্থতার খবর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পার কাছে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এসেছে। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার এই শয্যাশায়ী হওয়ার সংবাদটি তিনি কোনোভাবেই মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি চম্পা। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন যে, এই দুঃসংবাদটি শোনা সত্যিই অনেক দুঃখজনক এবং এমন কিছু তিনি কখনোই কল্পনা করেননি। ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো একজন প্রাণবন্ত মানুষের এমন দুঃসংবাদ এত তাড়াতাড়ি শুনতে হবে, তা ছিল তার চিন্তার বাইরে। চম্পার মতে, এই নির্মম সত্যটি মেনে নেওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে দীর্ঘদিনের কাজের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে চম্পা তুলে ধরেন তার জীবনযুদ্ধের নানা কঠিন সময়ের কথা। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে শুটিং সেটে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন কাঞ্চন। একবার পাহাড়ের অনেক উঁচুতে শুটিং করার সময় নিচে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই মৃত্যুকূপ থেকেও অদম্য লড়াই করে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন এই অভিনেতা। সেই লড়াকু মনোভাবের কারণেই তিনি সহকর্মীদের কাছে সবসময় একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কাঞ্চনের ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ কিছু দিকের কথাও উল্লেখ করেন চম্পা। তিনি জানান, ইলিয়াস কাঞ্চন নিয়মিত ধর্মকর্ম পালন করতেন এবং অত্যন্ত নীতিবান মানুষ ছিলেন। কাজের ফাঁকেও যখনই চম্পার সাথে দেখা হতো, তিনি নিয়মিত নামাজ পড়া এবং ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিতেন। সহকর্মীর এমন আধ্যাত্মিক এবং আদর্শিক শিক্ষা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয় ছিল। সেই মানুষটিই আজ দূর প্রবাসে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী, যা চম্পাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। প্রিয় সহকর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন এবং ভক্তদেরও তার পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।