আজ জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকারে প্রতীক ইয়াসিরের জন্মদিন। রাজধানীতে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর সংগীতযাত্রা শুরুটা ছিল নিছক শখের জায়গা থেকে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে ওঠে তার নেশা ও পরিচয়।
কিশোরকাল থেকেই গানের সঙ্গে তার সর্ম্পক হয় গভীর। এমনকি মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘ফেবলস’ ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রথমবারের মতো মঞ্চে দাঁড়ান তিনি, সেখান থেকেই শুরু হয় তার আনুষ্ঠানিক পথচলা।
সংগীতের প্রতি একাগ্রতা ও দৃঢ়তা তাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখায়। ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘সাউন্ড’, যেখানে প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দায়িত্বও নেন নিজেই। এই ব্যান্ডের মাধ্যমেই তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি পান সংগীতপ্রেমীদের কাছে।
নিজস্ব উদ্যোগে একাধিক গান প্রকাশ করে তিনি তৈরি করেছেন আলাদা শ্রোতাপ্রিয়তা। ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে নানা প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে গেছেন সমানভাবে। ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ‘সাউন্ড’ ব্যান্ডের হয়ে প্রকাশ করেন মিক্সড অ্যালবাম ‘প্রথম’ ও ‘অতীত স্মৃতি’, যা তার ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি লাইভ শো করে সংগীতের প্রতি তার নিবেদন তুলে ধরেছেন বারবার। তবে ব্যস্ত এই যাত্রায় একসময় কিছুটা বিরতিও নিতে হয়েছিল তাকে।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৪ সালে দেশে ফিরে নতুন করে শুরু করেন প্রতীক ইয়াসির। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন ‘এতো পথ’, ‘তোমার জন্য’, ‘এবি ম্যাশআপ’ ও ‘লাভ ম্যাশআপ’ যার মধ্যে তিনটি ইংরেজি মিউজিক ভিডিওও রয়েছে। পাশাপাশি ‘থাক না থাক’, ‘ঢাকা’ (বাংলা র্যাপ), ‘মন খোঁজে ঠিকানা’, ‘ভালো লাগে’, ‘মেঘ হয়ে বাঁচি’ ও ‘অতীত স্মৃতি’সহ বেশ কিছু মৌলিক গান দিয়ে তিনি নিজের সৃজনশীলতা ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি ‘ব্যান্ড কোস্টস’-এর লিড ভোকাল হিসেবে কাজ করছেন। এই ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রোকন ইমন, কাজী শিশির ও আরেফিন। শিগগিরই প্রকাশ পেতে যাচ্ছে তার নতুন গান ‘একা থাকা’, যার কথা ও সুর করেছেন সেতু চৌধুরী এবং সংগীত আয়োজন করেছেন আমজাদ হোসেন।